ইন্দির ঠাকরুন

চুনিবালা দেবী, আমাদের ইন্দির ঠাকরুন

দুর্গা ও অপুর পিসি, একটি অভাবনীয় চরিত্র

রোলটার জন্যে যোগাযোগ করা হলো চুনিবালা দেবী কে

তিনি বললেন, আশি বছর বয়স আমার

কোন ভূমিকায় নেওয়া হবে আমায়

রায় সাহেব জানালেন

কেন, একটি আশি বছরের মহিলার ভূমিকায়

মহিলা তার স্মৃতিশক্তি তখনও হারাননি

কুড়ি লাইনের আবৃত্তি শুনিয়ে

তাই প্রমাণিত করলেন

জিজ্ঞাসা করা হলো, শুটিং এর চাপ সহ্য করতে পারবেন কি

বৃদ্ধা জানালেন, এই জাতীয় সুযোগের অপেক্ষায়

শক্তি সঞ্চয় করে রেখেছেন, নিশ্চই পারবেন

শুটিং শুরু হলো

ছবির মাঝামাঝি, একটি দৃশ্যে

গল্প মতে, ইন্দির ঠাকরুন মারা যাবেন

একটি বাঁশবনে

ঠিক হলো, এই দৃশ্যের শুটিং সকাল পাঁচটায় শুরু হবে

সবাই সময়মতো উপস্থিত শুটিং স্থলে

বৃদ্ধাকে আষ্টে-পুষ্টে দড়ি দিয়ে বাঁধা হলো

শট নেওয়া হলো

শট নেবার পরেও, কোনো আলোড়ণ নেই বৃদ্ধার শরীরে

আশেপাশের মানুষজন চিন্তিত হয়ে পড়লেন

হৈচৈ শুনে, বৃদ্ধা চোখ খুললেন

জিজ্ঞাসা করলেন, কেন তাঁকে বলা হয়নি

শট নেওয়া হয় গেছে

তিনি মিছিমিছি মারা যাওয়ার ভান করে পড়ে আছেন এতক্ষন

এমনি ছিলেন আমাদের চুনিবালা দেবী

প্রতিধ্বনিত এখনও তাঁর উপস্থিতি, সাত সাগর জুড়ে

আমাদের আদরের ইন্দির ঠাকরুন সদাই আমাদের থাকবেন