তো বাংলা কাঁহা সে সিখা


প্রথমে বলি কণাদ বাবুর কথা

তারপরে আসি নিজের কোথায়

রবীন্দ্র জয়ন্তী উৎসব, কয়েকটা গান আর আবৃত্তির পর

মাঠে নাবলেন কনাদ বিশ্বাস, তিনটে গান গাইলেন

গান শুনে বোঝার উপায় ছিলনা

রবীন্দ্র সঙ্গীত, না তার কাছাকাছি কিছু

গানের পরে খাওয়া-দাওয়া

কনাদ বাবু স্টেজ থেকে গান গেয়ে সদ্য নেবেছেন

কাছে এসে বসলেন, গদগদ ভাব

লুচিটা মুখে পুরতে যাবেন, এমন সময় এক শ্রোতা বলে বসলেন

তৃতীয় গানটা কিন্তু রবীন্দ্র সঙ্গীত ছিলনা

কনাদ বাবু বললেন, তাই নাকি, অত শত বুঝিনা ভাই

গান ভালো লাগে, স্টেজে উঠে পড়লাম

তা ভাই কিছু মনে করবেন না

আসছে বছরের রবীন্দ্র জয়ন্তীতে গান গাইবার আগে

ঠিক জেনে নেবো, গানটা রবীন্দ্র-সঙ্গীত কিনা

কনাদ বাবু, আপনার খোঁড়া বাংলায়

মা-বাপ হারা সুরে, গান শোনার অপেক্ষায় রইলাম

আমার মতি গতি কণাদ বাবুর মতোই

উত্তর প্রদেশের বাঙালি, কানপুরে জন্ম

ভাত থেকে রুটি, মুগ থেকে অড়হর

রসগোল্লা থেকে লাড্ডু, মাছ থেকে মাংস

প্রেফার করি, তর্ক না করলেও চলে

উল্টোরথ পড়ে আমি বাংলা শিখেছি

ঘেঁষতে পারিনি 'দেশ' এর কাছে

হিন্দি আমার প্রথম ভাষা, হিন্দিতে ভাবি

হিন্দি, নো ভয়, বাংলা, পদে পদে বিস্ময়

আর পাঁচজন বাঙালির মতো

আমি আঁতেল, আমার ইগো আছে

বুড়ো বয়েসে, এক বাঙালির সঙ্গে বিয়ে করে

বাংলাতে পেলো, বৌ পড়ে শোনাতো

রবীন্দ্রনাথ আর কত কিছু, কিছুই বুঝতে পারতাম না

বৌ বাঙালি বানিয়েই ছাড়বে

আগেই বলেছি, আমার ইগো আছে

ইগো থাকলে ইভল্ভ করা সহজ হয়

এভরি ডে আমি ইভল্ভ করছি

আমি রবীন্দ্রনাথ কিছু কিছু উপলব্ধি করতে পারছি

ভালো লাগছে রবীন্দ্রসঙ্গীত

এভরি পাসিং ডে আমি একটু একটু করে বাঙালি হয়ে উঠছি

আমার বৌ যখন আমাকে ধুতি পাঞ্জাবি পরিয়ে

পুজোর দালানে নিয়ে যায়, বাঙালি সাজিয়ে

আমি বাধা দিইনা, বাঙালি সাজতে আমার ভালোই লাগে